এশিয়ার স্পট মার্কেটে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) দাম টানা দ্বিতীয় সপ্তাহের মতো কমেছে। চাহিদা কম থাকায় এবং নতুন প্রকল্প থেকে সরবরাহ বাড়ায় এলএনজির গড় মূল্য ১০ সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্নে নেমে এসেছে। খবর বিজনেস রেকর্ডার।
এলএনজিসহ অন্যান্য জ্বালানি পণ্যের বাজারে সাপ্তাহিক লেনদেনের শেষদিন ছিল শুক্রবার। শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দিনব্যাপী লেনদেন শেষ হওয়ার পর উত্তর-পূর্ব এশিয়ায় সেপ্টেম্বরে সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির সর্বশেষ সাপ্তাহিক গড় মূল্য দাঁড়িয়েছে ১১ ডলার ৯০ সেন্টে, যা আগের সপ্তাহের এমএমবিটিইউয়ে ১২ ডলার ৩০ সেন্টের তুলনায় কম। গত ১৬ মের পর এটিই সবচেয়ে কম মূল্য।
এ বিষয়ে আর্গাসের এলএনজি প্রাইসিং বিভাগের প্রধান মার্টিন সিনিয়র জানান, গরমের সময়ে এশিয়ার বেশির ভাগ দেশেই আবহাওয়া শীতলীকরণের জন্য কয়লা দিয়ে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হয়। এতে স্পট মার্কেট থেকে বাড়তি এলএনজি কেনার প্রবণতা কমে গেছে।
তিনি আরো বলেন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় এলএনজির ব্যবহার খুব একটা বাড়েনি। বাজারে চাহিদা কম থাকায় দামও নিম্নমুখী। অন্যদিকে দক্ষিণ এশিয়া ও চীনের অনেক ক্রেতা এখনো এলএনজির দামকে বেশি মনে করছেন। এজন্য তারা কেনাবেচায় অংশ নিচ্ছেন না।
বৈশ্বিক জ্বালানি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ফ্যাক্টস গ্লোবাল এনার্জির (এফজিই) গ্যাস বিশ্লেষক সিয়ামাক আদিবি বলেন, কানাডার এলএনজি প্রকল্প চালু হওয়ায় আগামী মাসগুলোয় সরবরাহ বাড়বে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের প্লাকেমিন টার্মিনাল ও আফ্রিকার মরিতানিয়া ও সেনেগালের অফশোর টরচু প্রকল্প থেকেও নিয়মিতভাবে গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে।
এদিকে ইউরোপের বাজারেও এলএনজির দাম কমেছে। এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল জানিয়েছে, সেপ্টেম্বর সরবরাহ চুক্তিতে নর্থওয়েস্ট ইউরোপ মার্কার (এনডব্লিউইএম) অনুযায়ী প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম দাঁড়িয়েছে ১০ ডলার ৮৬ সেন্টে, যা ডাচ টিটিএফ ফিউচার দামের চেয়ে ৪৪ সেন্ট কম।
অন্যদিকে এলএনজি পরিবহনের খরচ আটলান্টিক রুটে অপরিবর্তিত রয়েছে। শুক্রবার সেখানে প্রতিদিনের খরচ ছিল ৩৩ হাজার ৭৫০ ডলার। তবে প্রশান্ত মহাসাগরীয় রুটে খরচ কিছুটা কমেছে। এ রুটে প্রতিদিনের পরিবহন ব্যয় নেমে এসেছে ৩৭ হাজার ২৫০ ডলারে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এশিয়ায় গ্রীষ্মকালে গ্যাসের ব্যবহার বেশি বাড়েনি। এর বিপরীতে সরবরাহ পর্যাপ্ত রয়েছে। তাই সামনের সপ্তাহগুলোয়ও এলএনজির দাম বেশি বাড়ার সম্ভাবনা কম।